মিতুর বন্ধুদের বিরুদ্ধে তদন্ত-পরকীয়ার ছবি ভাইরাল

মিতুর বন্ধুদের বিরুদ্ধে তদন্ত-পরকীয়ার ছবি ভাইরাল Image

তানজিলা চৌধুরী মিতুর সঙ্গে ডা. মোস্তফা মোরশেদ আকাশের পরিচয় হয় ২০০৯ সালে । তারপর তাদের মধ্যে গড়ে ওঠে প্রেমের সম্পর্ক। অবশেষে  তারা ২০১৬ সালে বিয়ে করেন। কিন্তু সেই গভীর ভালোবাসার সম্পর্ক শেষ হলো মর্মান্তিক ঘটনায়।

ডা. আকাশ গত বৃহস্পতিবার ভোরে আত্মহত্যা করেন । আত্মহত্যার আগে ফেসবুকে তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের অভিযোগ এনে পোস্ট দেন তিনি। পোস্টের সঙ্গে  তার স্ত্রীর পরকীয়ার  কিছু গোপন মুহূর্তের আপত্তিকর কিছু ছবি ও এসএমএসের স্ক্রিন শট দেন। এছাড়া আত্মহত্যার জন্য নিজের স্ত্রীকে দায়ী করেন যান। পাশাপাশি দায়ী করেন শ্বশুর ও শাশুড়িকে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইতোমধ্যে সেই সব ছবি ভাইরাল হয়েছে।

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (উত্তর) মিজানুর রহমান বলেন, বৃহস্পতিবার ভোরে চট্টগ্রামের চান্দগাঁও আবাসিক এলাকার বাসায় ইনজেকশনের মাধ্যমে নিজের শরীরে শিরায় বিষ প্রয়োগ করে আত্মহত্যা করেন আকাশ। আত্মহত্যার আগে তিনি ফেসবুকে তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পর্ক ও প্রতারণার অভিযোগ করে যান। এর প্রমাণ হিসেবে মিতুর সঙ্গে তার বন্ধুদের বেশ কিছু ছবি দিয়ে যান।

পুলিশ বলছেন, বিয়ের পরপরই আকাশের সঙ্গে মিতু যুক্তরাষ্ট্র চলে যান। তখন থেকেই বিয়ে বহির্ভূত সম্পর্কের অভিযোগ নিয়ে দুজনের মধ্যে বিরোধ চলে চলছিল। কিন্তু গত ১৩ জানুয়ারি মিতু দেশে আসার পর তা আরও বেড়ে যায়। বুধবার রাতে এ নিয়ে তাদের মধ্যে হাতাহাতিও হয়। মিতু তার বাবার বাড়িতে রাত ৪টার দিকে  চলে যান। মিতু চলে যাওয়া পর ভোরে আত্মহত্যা করেন ডা. আকাশ।

মিতুর বন্ধুদের বিরুদ্ধে তদন্ত-পরকীয়ার ছবি ভাইরাল Image

এই ছবিগুলো নিজের ফেসবুকে দিয়ে যান ডা. আকাশ

পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার মিজানুর রহমান বলেন, আকাশ তার পোস্টে মিতুর যেসব বন্ধুর নাম বলে গেছেন, তাদের বিষয়ে তদন্ত করছে পুলিশ।

ইতোমধ্যে মিতুকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।মিতুর বাবা, মা সহ 6 জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

আরো পড়ুন: চিত্র নায়িকা পপিকে বিয়ে করতে চাই-হিরো আলম

ডা. আকাশ ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, তানজিলা হক চৌধুরী মিতুর সঙ্গে  আমার  ২০০৯ সাল থেকে পরিচয়। প্রচণ্ড ভালবাসি ওকে। ও নিজেও আমাকে অনেক ভালবাসে।  অনেকে বউ পাগলাও ডাকত।…আমিতো বেঁচে থেকেও মৃত হয়ে গেলাম। আমার ভালবাসা সবসময় ওর জন্য ১০০% ছিল। আমি আর সহ্য করতে পারিনি। আমাদের দেশে তো ভালবাসায় চিটিং এর শাস্তি নেই। তাই আমিই বিচার করলাম আর আমি চির শান্তির পথ বেছে নিলাম। তোমাদেরও বলছি কাউকে আর ভাল না লাগলে সুন্দরভাবে আলাদা হয়ে যাও চিট কর না মিথ্যা বল না। আমি জানি অনেকে বিশ্বাস করবে না এত অমায়িক মেয়ে আমিও এসব দেখে ভালবেসেছিলাম। ভিতর বাহির যদি এক হত। সবাই আমার দোষ দিবে সবকিছুর জন্য তাই ব্যাখ্যা করলাম।…ও মা তুমি মাফ করে দিও তোমার স্বপ্ন পূরণ করতে পারলাম না। মায়ের ভালবাসার কখনো তুলনা চলে না।…’

চন্দনাইশ উপজেলার বরকল বাংলাবাজার এলাকার মৃত আবদুস সবুরের ছেলে ডা. আকাশ। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে কর্মরত ছিলেন। তার স্ত্রী মিতু একজন চিকিৎসক।